অল্প বয়সেই ত্বক বুড়িয়ে যাচ্ছে ? রইল সমাধান…

অসময়ে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার পিছনে স্ট্রেস এবং পরিবেশ দূষণ সিংহভাগ ক্ষেত্রেই দায়ি থাকে। একাধিক স্টাডি অনুসারে এদেশে যেহারে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে তার সরাসরি প্রভাব পরছে ত্বকের উপর। সেই সঙ্গে স্ট্রেসের মাত্রা বাড়ার কারণে অসময়ে ত্বকও যাচ্ছে বুড়িয়ে। আর ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া মানে বলিরেখা প্রকাশ পাওয়া। ফলে সৌন্দর্য কমতে সময় লাগে না। এমনটা যে কারও সঙ্গেই ঘটতে পারে। কিন্তু আপনি যদি চান, তাহলে বয়স বাড়লেও আপনার ত্বক কিন্তু থাকবে সুন্দর এবং তুলতুলে তাহলে কি করবেন ?

এই উত্তর পেতেই নজর রাখতে হবে বাকি আর্টিকেলে । এখানে এমন কিছু নিয়ম আলোচনা করা হল,  যে নিয়মগুলি মানলে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়তে একেবারেই সময় লাগবে না। তাহলে আর অপেক্ষা কেন? ৩০-এর পরেও ত্বককে উজ্জ্বল এবং প্রণবন্ত রাখতে কী কী করতে হবে চলুন জেনে নেয়া যাক-

১) প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন:-

ত্বক তখনই বুড়িয়ে যায়, যখন স্কিন নিজের আদ্রতা হারাতে থাকে। এই কারণেই তো ত্বককে সুন্দর রাখতে বেশি মাত্রায় জল খাওযার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। আসলে দেহের অন্দরে জলের ঘাটতি দূর হলে ত্বকের আদ্রতাও বজায় থাকে। ফলে স্কিনের ইলাস্ট্রিসিটির এত মাত্রায় উন্নতি ঘটে যে সৌন্দর্য তো কমেই না। উল্টে বয়সের কোনও ছাপই পারে না ত্বকের উপর। তাই তো দিনে কম করে ৩-৪ লিটার জল খেতে ভুলবেন না যেন!

২) পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমোন ঃ-

ঘুমের ঘাটতি মানেই ত্বকের মৃত্যু! সারাদিনের ক্লান্তির পর যখন আমরা ঘুমোতে যাই তখন আমাদের শরীরের সমস্ত অরগ্যানও ধীরে ধীরে পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে যাতে পরদিন আমরা আবার নতুন উদ্যমে জেগে উঠতে পারি । ঘুম কম হলে শরীরের অভ্যন্তরীণ কোষগুলি ঠিকভাবে একটিভ হতে পারেনা। তার প্রভাব স্কিনে তো পরেই পাশাপাশি ব্লাড প্রেসার, হার্টের রোগ সহ নানাবিধ জটিল অসুখ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
তাই তো ত্বককে সুস্থ রাখতে কম করে ৮ ঘন্টা ঘুমতেই হবে।

৩) মিষ্টি খাবার বর্জন করুন ঃ-

মিষ্টি প্রেমিদের কাছে এটা হয়তো খুব একটা ভাল কথা নয় ! কিন্তু শুনতে খারাপ লাগলেও একথা সত্যি মিষ্টি আমাদের শরীরের বয়স বাড়িয়ে দেয় ।


একাধিক গবেষণায় একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে দেহে চিনির মাত্রা বাড়তে থাকলে রক্তে গ্লাইকেশন ঘটতে থাকে । এই সময় চিনি, ত্বকের অভ্যন্তরে  জলের মাত্রা কমাতে শুরু করে। ফলে স্কিনের আদ্রতা হারিয়ে যায়। আর এমনটা হলে বলিরেখা প্রকাশ পেতেও সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। তাই আজীবন যদি ত্বককে সুন্দর রাখতে চান, তাহলে মিষ্টি খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। তাহলেই দেখবেন উপকার মিলতে শুরু করেছে।

৪) প্রোটিনের ঘাটতিঃ-

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দেহের অন্দরে প্রোটিনের মাত্রা কমতে থাকলে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে স্ট্রেসের মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে তার সরাসরি প্রভাবে পরে ত্বকের উপর। আসলে স্ট্রেস লেভেল বাড়লে মস্তিষ্কে কর্টিজল নামক একটি হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ত্বক বুড়িয়ে যেতে থাকে। এই কারণেই তো ত্বককে সুন্দর রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডার্মাটোলজিস্টরা।

৫) অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর ঘাটতিঃ-

ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রোধ করতে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর অবদান অপরিসীম ।  ত্বকের অন্দরে টক্সিক বা বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। তাই যে যে খাবারে এই দুই উপাদান রয়েছে, তা বেশি করে খেলে ত্বকের গভীরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যেতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের সৌন্দর্য কমার আশঙ্কা  কমে যায়। সাধারনতঃ লেবু, গাজর, টোম্যাটো, ডার্ক চকোলেট , আমলকী, কলা ইত্যাদি তে এবং রঙিন প্রায় সব ফলেই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে ।

এই নিয়মগুলি মাথায় রেখে চললে আপনার ত্বক ভাল থাকবে নিঃসন্দেহে । আরও জানতে আমাদের সাথে থাকুন । Buzz Enlightenment আপনার ও আপনার পরিবারের সুস্থ সুন্দর জীবন কামনা করছে।

One Comment

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *