চিন্তামুক্ত জীবন গড়ে তুলুন এই ৫ টি অভ্যেসে

চিন্তা আমরা সকলেই করি । আর আজকের যুগে দাঁড়িয়ে কেই বা চিন্তিত নয় বলুন তো ? বর্তমানে একজন শিশুকিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ বৃদ্ধ বৃদ্ধা- চিন্তার ভাঁজ সবার কপালেই প্রকট । প্রত্যেকেই যে যার জীবন সম্পর্কিত সমস্যায় চিন্তিত। আর চিন্তা করা কি খারাপ নাকি যে চিন্তা করবেন না? ছোটবেলা থেকেই মোটামুটি সবাই এই শিক্ষায় বড় হয়েছি- যে কোন কাজ করার আগে ভালভাবে চিন্তাভাবনা করে নেওয়া উচিত । অবশ্যই উচিত, এই নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই । কিন্তু,  একথাও তো সত্যি অতিরিক্ত কোনোকিছুই ভাল না । ঠিক তেমনই, অতিরিক্ত চিন্তাও আমাদের জীবন কঠিন করে তোলে । কিন্তু কি করা যাবে, বাস্তব পরিবেশ পরিস্থিতি যা পড়েছে তাতে চিন্তা তো নিজের অজান্তেই মনে গেঁথে বসে। এর থেকে মুক্তির উপায় তো জানা নেই !

উপায় আছে। আপনার জীবনের কিছু সুঅভ্যাসই পারে আপনার জীবন থেকে চিন্তার ভার লঘু করতে । আসলে কি জানেন, চিন্তা করে কোনও কাজ শুরু করলে তাতে যেমন সফল হওয়ার চান্স বেশি থাকে তেমনই অতিরিক্ত চিন্তা করলে ঠিক এর উল্টোটাই ঘটে । আপনি নিজেও হয়তো একথা স্বীকার করবেন, যখন আপনি কোনও কিছু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করেন তখন আপনার স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়, ভুলত্রুটি হয় বেশি; সবচেয়ে বড় কথা মানসিকভাবে আপনি তখন শান্তিতে থাকেন না ।

চিন্তাকে দূরে রাখতে আজ থেকেই জীবনে আনুন এই ৫ টি অভ্যেস –

১. নিজের সেরাটার সম্পর্কে অবগত হন ঃ

আমি যথেষ্ট পরিশ্রমী নই , এই কাজের উপযুক্ত নই , আমার যোগ্যতা নেই – এইসমস্ত ভাবনাচিন্তাই আমাদের মনে প্রাথমিক ভয়ের সূচনা করে দেয় । যে কাজই করুন না কেন সবসময় চেষ্টা করবেন নিজের সেরাটা উৎসর্গ করতে আর যখন আপনি জানেন আপনি নিজের সেরাটুকু দিচ্ছেন তখন এটাও মেনে নিন সফলতা এমন কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে যারপুরোটার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে নেই ।আবার অনেক সময় সঠিক মানুষ ও পরিবেশের অভাবে সেরাটাই সবথেকে খারাপ এবং সবথেকে খারাপটাই সেরা হয়ে যায়। কিন্তু মনে রাখুন আপনি আপনার সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করেছেন।

২. কৃতজ্ঞ হোন ঃ 

জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে শিখুন । চিরকাল কেউ সুখে বা দুঃখে থাকেনা আর সুখ বা দুঃখ জীবনে একইসাথে আসেনা । তাই সবার আগে সময়ের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। জীবনে আপনার কি নেই , কি পাননি এটা না ভেবে ভাবুন কি কি পেয়েছেন , অনেকে হয়তো সেটাও পায়না ।প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা তালিকা করে ফেলুন আপনি কিসের কিসের জন্য এবং কাদের কাছে কৃতজ্ঞ । এক্ষেত্রে আপনাকে কারুর সামনে গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানানোর কথা বলছিনা, নিজে মনে মনে কৃতজ্ঞ থাকাটাই যথেষ্ট ।

মনে রাখবেন, আপনি কারুর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালে সেও আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ হতে পারে, আর পারস্পরিক কৃতজ্ঞতাবোধ থাকলে তবেই না জীবন সুন্দর হতে পারে ?এবার আর একটা তালিকা করুন আপনি কি কি ভাল কাজ করেছেন বা ভাল কাজের সাথেযুক্ত ছিলেন। ভাল সময়ের রোমন্থন মন ভাল করে দেয়।এভাবে দিনের শুরুতেই মনটা ভাল হয়ে গেলে দেখবেন সারাদিনটাও ভালভাবেই শেষ হবে।

৩. উপলব্ধি করুন আপনি ভবিষ্যৎ বক্তা নন ঃ

শুধু আপনি না কেউই ভবিষ্যৎ বলতে পারে না। আপনি যখন নিজের বর্তমানের মূহুর্তগুলোয় ভবিষ্যতে কি হবে, নাহবে এইসব নিয়ে চিন্তা করছেন তার মানে তখন আপনি নিজেই নিজের জন্য বরাদ্দ সময়গুলো নষ্ট করছেন। আবারঅতীতের কোন ভুলের ফলাফল যে সবসময় একই হবে এটা কখনই উর্বর চিন্তা নয় বরং বর্তমানের সময়গুলোকে নিজের আনন্দের ও উপভোগের  কারণ বানিয়ে ফেলুন। বর্তমানে বাঁচুন , ভবিষ্যতের সুখ বর্তমানের পদক্ষেপের উপরেই নির্ভর করে ।

৪. সবকিছু নিখুঁত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা বন্ধ করুন ঃ

উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা দোষের কিছু নয়, কিন্তু একই সাথে সবকিছু নিখুঁত আশা করা অবাস্তব আপনি যতক্ষন সেইঅপেক্ষা করছেন ততক্ষন আপনি সময় নষ্ট করছেন। জীবনে সবকিছু কখনই নিঁখুত হয় না। বরং সবরকম প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াতেই জীবনের সফলতা।যারা এখনো সবকিছু নিখুঁত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন  তারা সেই আশা ছেড়ে দিতে পারেন। এটি কখনই কোন বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত হতে পারেনা।

৫. দূরদৃষ্টি হতে চেষ্টা করুন ঃ

আপনি যখন কোন চিন্তাই করছেন তখন আর একটু ভাবুন আগামী পাঁচ বছর পর জিনিসটার কি আসলেই কোনো মূল্য থাকবে আপনার জীবনে  কিংবা  আগামী মাস পর্যন্ত?  তাহলে কেন এত চিন্তা করছেন, এই সময়ের বাধাই আপনাকে অতিরিক্ত চিন্তা করে সময় নষ্ট করা থেকে বাঁচিয়ে দেবে ।     অতি ক্ষুদ্র জিনিসকে অতি বৃহৎ বস্তুতে পরিণত করা এবং কোনো বিষয়ের খারাপটা চিন্তা না করে ভালোটা চিন্তা করার থেকে সহজ কাজ আর হয় না। যেটাই ভাবুন সেটার মেয়াদ সম্পর্কেও ভাবুন ।

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই অভ্যেস গুলি প্রয়োগ করতে চেষ্টা করুন । আপনি নিজেই আপনার জীবনের পরিবর্তনকে উপলব্ধি করতে পারবেন ।

ধন্যবাদ।

One Comment

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *