মাত্র ১০ মিনিটেই পেয়ে যান প্রাকৃতিক ফর্সা ত্বক

ফরসা হতে কে না চায়?  মেয়েরা তো বটেই, এখন ছেলেরাও ফরসা হবার দৌড়ে পিছিয়ে নেই । বাজারে নামীদামী ব্র্যান্ডের ফেয়ারনেস ক্রিমের ছড়াছড়ি এখন । কিন্তু সত্যি এটাই যে আপনি যত দাম দিয়েই কিনে এসব ব্যবহার করুন না কেন এই সব ক্রিম ত্বককে সাময়িকভাবে উজ্জ্বল করে তুললেও দীর্ঘ মেয়াদি ফর্সা ত্বক পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ কিন্তু এমনভাবে সম্ভব নয়। ভাবছেন তাহলে কি উপায় ! সেই উপায়ের কথাই এখানে বলব, একটু ধৈর্য ধরে আর্টিকেলটি পড়তে হবে ।

দীর্ঘস্থায়ী ফরসা ত্বক পেতে গেলে আমরা সেটা ঘরোয়া কিছু উপায়ের মাধ্যমেই লাভ করতে পারি । এর জন্য আমাদের খুব বেশি কসরত বা খরচা করতেও হবেনা। বিভিন্ন স্কিন বিশেষজ্ঞরাও এইসব উপায়কে প্রাধান্য দিয়েছেন । চলুন, দেরি না করে জেনে নেই-

১) লেবু ঃ- 

ত্বকের পরিচর্যায় লেবুর ভূমিকা অনস্বীকার্য । লেবুর মধ্যে থাকা উপাদান স্কিন কে ভেতর থেকে পরিস্কার করে , মৃত কোষ সরিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে ফরসা করে তোলে খুব তাড়াতাড়ি । ২ চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ভাল করে মাসাজ করে কম করে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন ভালভাবে ।

এই ফেসপ্যাকটি নিয়মিত মুখে লাগালে ত্বকের ভেতরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে, যা স্কিনের ভেতরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদানদের বের করে দেবে। ফলে ত্বক ফর্সা এবং উজ্জল হয়ে উঠতে সময় লাগবে না। ব্রণ, অ্যাকনে এবং আরও নানাবিধ ত্বকের রোগের প্রকোপ কমাতেও এই ফেসপ্যাকটি দারুন কার্যকর।

২) মধুঃ-

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে মধুর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। মধুর মধ্যে থাকা একাধিক পুষ্টিকর উপাদান একদিকে যেমন ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি ত্বকের যে কোনও ধরনের দাগও মিলিয়ে যেতে সাহায্য করে। ফলে স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। তাই চটজলদি যদি ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে হয়, তাহলে ১ চামচ মধুর সঙ্গে আধ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর সেই পেস্টটি ভাল করে মুখে এবং গলায় লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলতে হবে সারা মুখটা।

৩) দইঃ-

এতে উপস্থিত ল্যাকটিক অ্যাসিড এবং আলফা হাইড্রক্সসিয়াল অ্যাসিড মৃত কেষের স্থরকে সরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ত্বকের ভেতরে পুষ্টির ঘাটতি যেমন দূর করে, তেমনি ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেয়। ফলে চোখের পলকে ত্বক সুন্দর হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে এক বাটি দইয়ের সঙ্গে সম পরিমাণে ওটস মিলিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফলতে হবে পেস্টটা। এরপর মুখে কিছুটা বরফ ঘষতে পারলে আরও ভাল ফল পাওয়া যায় এবং অবশ্যই এরপর মুখে সাবান বা ফেসওয়াশ দেবেন না !

৪) পেঁপেঃ-

দ্রুত ত্বককে ফর্সা বানাতে চাইলে নিয়মিত পেঁপে দিয়ে বানানো ফেসপ্যাক মুখে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো পেঁপের সঙ্গে সম পরিমাণ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর তা মুখে লাগিয়ে কম করে ২০ মিনিট ভাল করে মাসাজ করুন। এইভাবে প্রতিদিন ত্বকের পরিচর্যা করলেই দেখবেন চোখে পরার মত ফরসা ভাব। আসলে পেঁপে এবং মধুতে থাকা বেশ কিছু উপকারি এনজাইম এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫) টোম্যাটোঃ-

ত্বকের যত্নে টোম্যাটোর ভূমিকা স্বীকার করতেই হয় । এতে উপস্থিত লাইকোপেন নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট একদিকে যেমন ত্বকের ভেতরের ক্ষত সারায়, তেমনি পুষ্টির ঘাটতিও দূর করে। ফলে ত্বক তো ফর্সা হয়ে ওঠেই, সেই সঙ্গে একাধিক স্কিন ডিজিজও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। অল্প পরিমাণ টমাটোর রসের সঙ্গে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে সেটি মুখে লাগাতে হবে। টানা কয়েক মাস এমনভাবে ত্বকের খেয়াল রাখলেই দেখবেন স্কিন টোনের উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে। টোম্যাটোয় থাকা ভিটামিন ত্বকের পক্ষে বিশেষ ফলদায়ক।

৬) পাকা কলা ঃ-

একাধিক পরীক্ষানিরীক্ষায় প্রমাণ হয়েছে কলায় উপস্থিত ভিটামিন এ,বি, ই এবং পটাশিয়াম, ত্বকের কোষে প্রবেশ করে  ত্বককে খুব তাড়াতাড়ি স্বাস্থজ্বল   করে তোলে। সেই সঙ্গে স্কিনের গভীরে পুষ্টির ঘাটতিও দূর হবে। এক্ষেত্রে পরিমাণ মতো কলা নিয়ে প্রথমে তা চোটকে নিতে হবে। তারপর তাতে দু-এক চামচ মধু মিশিয়ে সেই পেস্টটি ভাল করে মুখে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলেই দেখবেন ফল মিলতে শুরু করেছে।

এইসকল প্রাকৃতিক উপাদান নিয়মিত ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে স্বাস্থজ্জল , এবং চিরস্থায়ী ফরসা । এর পাশাপাশি দিনে অবশ্যই কমপক্ষে ৪ লিটার জল খেতে হবে । কারণ জল আমাদের শরীরকে আদ্র রাখে । পরিমাণ মত জলপান না করলে স্কিন রুক্ষ হয়ে যায় । আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে , জানাতে ভুলবেন না।

ধন্যবাদ।

One Comment

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *